সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ০২:০৬ পূর্বাহ্ন
হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, মুমিনদের জন্য রমজানের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয় রজব মাস থেকেই। তবে কেউ যদি রজবে সচেতন হতে না পারেন, তাহলে শাবানই সর্বোত্তম সময়। মহানবী (সা.) বলেন, ‘রমজান ও রজবের মধ্যবর্তী এ মাসের ব্যাপারে মানুষ উদাসীন থাকে। অথচ এই মাসে বান্দার আমল আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়। আমি চাই, যেন আমার আমল পেশ হয় এমন অবস্থায়, যখন আমি রোজাদার।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস : ২৩৫৭)
শাবান মাসে নবীজি (সা.) অধিক পরিমাণে রোজা রাখতেন। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে রমজান ছাড়া কোনো মাসে পুরো রোজা রাখতে দেখিনি এবং শাবানের চেয়ে বেশি রোজা রাখতে দেখিনি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৮৬৮)
এ সময় যারা বিগত রমজানের কাজা রোজা বাকি রেখেছেন, তারা তা আদায় করতে পারেন। তবে রমজানের এক বা দুই দিন আগে রোজা রাখা নিষেধ। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৮১৫)
রমজান ইবাদতের মাস। তাই পারিবারিক, ব্যবসায়িক ও পেশাগত কাজগুলো আগে থেকেই গুছিয়ে ফেললে ইবাদতে সম্পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া সহজ হবে। বিশেষ করে নারীরা ঘরের প্রস্তুতি নিয়ে রাখলে রমজানে অধিক ইবাদতে সময় দিতে পারবেন।
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ দানশীল। কিন্তু রমজানে তিনি আরও বেশি দান করতেন, বিশেষ করে যখন জিবরাইল (আ.) তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬)
যদিও জাকাত প্রদানের জন্য নির্দিষ্ট কোনো মাস নেই, তবে আলেমরা বলেন, রমজানে জাকাত দিলে সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। তাই যারা জাকাতের নিসাবের আওতায় আছেন, তারা এখন থেকেই হিসাব করে প্রস্তুতি নিতে পারেন।
রমজানে মহানবী (সা.)-এর অন্যতম প্রধান আমল ছিল কোরআন তিলাওয়াত। হাদিসে আছে, ‘রমজানের প্রতি রাতেই জিবরাইল (আ.) নবীজি (সা.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন এবং তারা পরস্পরকে কোরআন তিলাওয়াত করে শোনাতেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬)
এখন থেকেই প্রতিদিন কোরআন তিলাওয়াত ও অর্থ বোঝার অভ্যাস করলে রমজানে তা অব্যাহত রাখা সহজ হবে।
রমজানে রাতের ইবাদতের গুরুত্ব অপরিসীম। নবীজি (সা.) রমজানে তাঁর পরিবারকে তাহাজ্জুদের জন্য জাগিয়ে দিতেন। যারা এখন থেকেই তাহাজ্জুদের অভ্যাস গড়ে তুলবেন, তাদের জন্য রমজানে এই আমল সহজ হয়ে যাবে।
রাসুল (সা.) শাবান মাসের চাঁদের হিসাব করতেন এবং সাহাবিদেরও তা করতে উৎসাহিত করতেন। আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) শাবান মাসের চাঁদ গণনা করতেন। এরপর রমজানের চাঁদ দেখে রোজা রাখতেন। যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকত, তবে শাবান ৩০ দিন গণনা করতেন।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ২৩২৫)
রমজান আমাদের জন্য ইবাদত, আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া অর্জনের মাস। তাই আগে থেকে পরিকল্পিত প্রস্তুতি নেওয়া উচিত, যাতে অলসতা ও অমনোযোগিতা দূর হয়। সর্বোচ্চ কল্যাণ লাভের জন্য এখন থেকেই ইবাদতের মানসিকতা তৈরি করতে হবে।
আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যারা আমার উদ্দেশ্যে চেষ্টা-সংগ্রাম করে, আমি অবশ্যই তাদের আমার পথে পরিচালিত করব।’ (সুরা আনকাবুত, আয়াত : ৬৯)
তাই আসুন, পবিত্র রমজানের সর্বোচ্চ বরকত পেতে এখন থেকেই প্রস্তুতি নেই!